| শিরোনাম |
|
বিএনপির সম্মেলনে শ্রমিকলীগ নেতা,ছাত্রদলের প্রতিবাদ
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
|
![]() বিএনপির সম্মেলনে শ্রমিকলীগ নেতা,ছাত্রদলের প্রতিবাদ জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী,বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন,বিএনপি বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ কেন্দ্রীয়,জেলা এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী সংযুক্ত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ৭৫৫ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে জয়ী হয় এবং এডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন ৪৭৪ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্মেলনের একদিন পরে একটি ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক,জেলার দুমকি উপজেলা বিএনপি,অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী তাদের নিজেদের ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডি,বিভিন্ন পেজ ও ম্যান্সেজার গ্রুপ থেকে এক ব্যাক্তির কয়েকটি ছবি শেয়ার করে জানতে চান শ্রমিকলীগ নেতা কিভাবে বিএনপির কাউন্সিলে গেলেন এবং কিভাবে তিনি বিএনপির ডেলিগেট কার্ড পেলেন। তারা আরো প্রশ্ন তুলেন বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা কাউন্সিলের দাওয়াত বা ডেলিগেট কার্ড না পেলেও শ্রমিকলীগ নেতা কিভাবে কার্ড পেলেন তার জবাব চান তারা। প্রকাশ পাওয়া ছবিতে দেখা যায় বিএনপির কাউন্সিলে উপস্থিত হয়ে ধান মানবের সাথে ছবি তুলছেন এক ব্যাক্তি তার গলায় ঝুলানো রয়েছে একটি কার্ড। কার্ডের লেখা পরিস্কার বোঝা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে গলায় ঝুলানো কার্ডটি বিএনপির কাউন্সিলের ডেলিগেট কার্ড হবে। কারণ ওখানে কার্ড ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেননি। যারাই বিএনপির ডেলিগেট কার্ড পেয়েছে তারাই ঐ কাউন্সিলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। বিতর্কিত ঐ ব্যাক্তির নাম মোঃ খলিলুর রহমান শরীফ, তার বাসা উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নে। তিনি জাতীয় শ্রমিকলীগের দুমকি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি। এমন একটি কমিটির কাগজও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ঐ কমিটি ২০/১০/২০২৩ইং পটুয়াখালী জেলা শ্রমিকলীগ অনুমোদন করেছে। এছাড়াও ২০২২ সালে দুমকি উপজেলা কৃষকলীগ আয়োজিত বিএনপি জামাতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে করা মানববন্ধনে উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতির পাশেই তাকে ছবিতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় তিনি আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ, তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন,যিনি এই লোককে অতিথি কার্ড দিয়েছেন তাকে খুঁজে বের করে তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি রইলো জেলা বিএনপির কাছে। আমরা কিন্তু কাউকেই ছাড় দিবো না :-দয়া করে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে বাপকেও ছাড় দিবো না...। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা ও উপজেলার অন্য ত্যাগী নেতা কর্মীরাও। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন খলিলুর রহমান শরীফ,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের আর্শিবাদপুষ্ট ছিলেন। তিনি আওয়ামীলীগের একজন পরিচিত মুখ,তিনি জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন,তিনি উপজেলা শ্রমিকলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। তারমতো একজন ফ্যাসিস্ট কিভাবে জেলা বিএনপির কাউন্সিল সভার অতিথি কার্ড পায়? কারা তারে এপর্যন্ত আসার সুযোগ করে দিলো তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান তৃনমূল কর্মীরা। এই বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি খলিলুর রহমানের বক্তব্যে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক কালবেলাকে জানান তিনি আগে ঢাকায় থাকতেন তাকে যে শ্রমিকলীগের পদ দেয়া হয়েছে এটা তিনি জানতেন না, বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিলেন এই বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি মেম্বার হওয়ার কারণে টিআর কাবিখার কাজ পাওয়ার জন্য গেছি এবং আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলো উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি জোর করে নিয়ে যেতো। কিভাবে বিএনপির কাউন্সিলে ডেলিগেট কার্ড পেলেন এবং কারা আপনাকে কার্ড দিলো এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমি এখন প্যানেল চেয়ারম্যান,তাই উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাকে কার্ড দিছে তাই আমি সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলাম। এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান মুন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক কালবেলা'কে বলেন আমরা তাকে কোন কার্ড দেইনি তিনি কিভাবে কার্ড পেলেন তাও জানা নেই এবং শ্রমিক লীগ নেতা সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিল কিনা তাও তার জানা নেই। |