| শিরোনাম |
|
প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস বা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের দ্বারা প্রবাসীরা অপমানজনক ব্যবহার, লাগেজ তল্লাশির নামে সময়ক্ষেপণ এবং সন্দেহভাজন হিসেবে দেখার অভিযোগ তুলছেন। সৌদি আরব থেকে আসা মো. শামীম (৩৮) নামের এক প্রবাসী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ‘১৪ ঘণ্টা ফ্লাইট শেষে ঢাকায় নেমেছি। লাগেজ নিতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা, এরপর কাস্টমসে আমাকে ঘন্টাখানেক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আমার ব্যাগ ঘেঁটে এমনভাবে দেখল, যেন আমি কিছু চুরি করে এনেছি। ভাবটা এমন, যেন আমরা অপরাধী।’ প্রবাসীদের এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রায়ই এমন অভিযোগ দেখা যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হটলাইন ও পোর্টাল সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ অভিযোগ ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহার ও লাগেজ হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও গত তিন বছরে অন্তত ২০ জন প্রবাসী হয়রানির অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, লাগেজ ছাড় করতে গিয়ে ‘নির্ধারিত ফি'র বাইরে’ টাকা দিতে হয়েছে। আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ‘বিমানবন্দর হলো দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রবাসীরা কোনো অপরাধ না করেই যদি হয়রানির শিকার হন, সেটি শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতারও প্রতিফলন।’ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞজনরা বলছেন, প্রবাসীদের সম্মানজনক অভ্যর্থনা নিশ্চিত করতে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি ও পৃথক অভিযোগ নিষ্পত্তি ইউনিট গঠন প্রয়োজন। পাশাপাশি e-gate ও অটোমেটেড সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উঠে এসেছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে কষ্ট করে দেশের জন্য আয় করেন। তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার শুধু অবিচারই নয়, বরং কৃতঘ্নতারও প্রকাশ। এক প্রবাসী বলেন, ‘বিমানবন্দরে কেউ আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করলে মনটা ভরে যায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা অপমানিত হই। দেশে আসা মানেই যেন জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো।’ |