| শিরোনাম |
|
ঋণ খেলাপি হলেই এমপি পদ বাতিলের সুপারিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
নির্বাচিত হওয়ার পর যদি কেউ ঋণ খেলাপি হন, তাহলে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল করা হবে—এমন বিধান আনার সুপারিশ করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।কমিশন তাদের ১৮৪ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রস্তাবনায় বেশ কয়েকটি সুপারিশ উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. অভ্যাসগত ঋণ খেলাপি ও বিল খেলাপিদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা। ঋণ খেলাপিরা মনোনয়নপত্র জমার ছয় মাস আগে তাদের সমস্ত ঋণ শোধ করবে। নির্বাচিত হওয়ার পর ঋণ খেলাপি হলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হবে। ২. ফেরারি আসামিদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা। ৩. ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে জামিনপ্রাপ্তদের উপযুক্ত আদালত কর্তৃক জামিনের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা। ৪. বেসরকারি সংস্থার কার্যনির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে পূর্ববর্তী তিন বছরের অবসর গ্রহণের বিধান বাতিল করা। ৫. নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের রায় ঘোষণার পর থেকেই সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। ৬. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা। ৭. আইসিটি আইনের ৯(১) ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে অভিযোগ গৃহীত হলে এবং নির্দোষ প্রমাণিত না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। ৮. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পদত্যাগ না করলে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা। ৯. তরুণ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শতকরা ১০ ভাগ মনোনয়ন সংরক্ষণের বিধান প্রস্তাব করা। ১০. স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের সম্মতি নেওয়ার বিধান করা। ১১. একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান বাতিল করা। ১২. নির্বাচনের পরে হলফনামার তথ্য যাচাই করা এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের নির্বাচন বাতিলের বিধান প্রস্তাব করা। ১৩. হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভবিষ্যতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রাখা। ১৪. সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা যদি পদত্যাগ না করেন, তবে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা। কমিশনের এই সুপারিশের বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। |