| শিরোনাম |
|
ব্যক্তিমালিকানাধীন উঠানে ইট বিছিয়েই থেমে গেল সরকারি প্রকল্প
কালীগঞ্জে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ভোগান্তিতে জমির মালিক
মোহাম্মদ গোলাম রসুল
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
|
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির উঠানের ওপর জোরপূর্বক ইট বিছানো হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও সেই ইট আর সরানো হয়নি। ফলে সরকারি প্রকল্পের দায় যেন এখন ভুক্তভোগী দুই পরিবারের কাঁধেই এসে পড়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর মধ্যপাড়া কাজুম আলী হাজীবাড়ি এলাকায় কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সড়ক থেকে একটি সংযোগ সড়কে ইট সলিং নির্মাণে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২৫৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সীমা অতিক্রম করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অতিরিক্ত প্রায় ১২৫ ফুট ইট বিছানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফারজানা হক রিনি ও ফাহমিদা হক রিন্তুর বসতবাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে রাস্তার অংশ নির্মাণ করায় বাড়িটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল, বসবাস এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যবহার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন খান। যদিও সরকারি নথিতে অন্য একজন ঠিকাদারের নাম রয়েছে, স্থানীয়দের দাবি—বাস্তবে কাজের নেতৃত্ব ও তদারকি করেছেন ইউপি সদস্য নিজেই। একই সঙ্গে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী ফাহমিদা হক লিখিত অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি ব্যক্তিমালিকানাধীন উঠান থেকে ইট অপসারণ করে দুই পাশের জমির সীমানা ঘেঁষে নতুনভাবে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেন। এ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকার বরাদ্দও অনুমোদন করা হয়। কিন্তু এরপরই প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে যায়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে কমিশন ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে অতিরিক্ত বরাদ্দ স্থগিত করা হয় এবং পুরো প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রকল্প বন্ধ হলেও ভুক্তভোগীদের বাড়ির উঠানে বিছানো ইট এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগী ফারজানা হক রিনি বলেন, "উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও আজ পর্যন্ত কেউ ইট সরাতে আসেনি। বারবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। সরকারি প্রকল্পের কারণে এখন নিজেদের বাড়িতেই আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছি।" অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন খান বলেন, "আমি ইট বিছাইনি, ঠিকাদার কাজ করেছেন।" তবে ঠিকাদারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম বলেন, "আমি ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা থেকে ইট সরিয়ে সীমানা ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাই অতিরিক্ত বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।" এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি প্রকল্প যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কাজ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত সেই জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে না পারে, তবে এর দায় নেবে কে? তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা পর্যালোচনা, প্রয়োজনে দায় নির্ধারণ এবং ভুক্তভোগীদের বাড়ির উঠান দ্রুত পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। |