| শিরোনাম |
|
পিরোজপুরে এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পলাতক অভিযুক্ত
মোঃ নাঈম তালুকদার, পিরোজপুর প্রতিনিধি:
|
পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা বারেকিয়া এতিমখানা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. মিজানুর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলে শিক্ষক তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে প্রথমে আপত্তিকরভাবে শরীর স্পর্শ করেন এবং পরে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনার পর সে মাদ্রাসা ছেড়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে পরিবারের অনুরোধে আবার মাদ্রাসায় ফিরলেও গত ২৪ জুন দুপুরে একই শিক্ষক পুনরায় তার ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেছে সে। এরপর বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। একই ধরনের অভিযোগ করেছে নাজেরা বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী। তাদের পরিবারের দাবি, নির্যাতনের ভয়ে তারাও মাদ্রাসা ছেড়ে বাড়িতে ফিরে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি হাফেজ মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, তিনি পিরোজপুরের বাইরে থাকায় সহ-সভাপতি ও এতিমখানার দায়িত্বশীলদের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। অভিযোগকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক আসন্ন কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে প্রচারণাও চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং কদমতলা ইউনিয়নের ভৈরমপুর এলাকায় নিজ বাড়িতেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে সরকারি অনুদান গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩৮ জন এতিম শিক্ষার্থীর নামে প্রতি ছয় মাসে ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা অনুদান নেওয়া হলেও সরেজমিনে গিয়ে মাত্র তিনজন আবাসিক শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩৮ জন এতিম বা দুস্থ শিক্ষার্থীর তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এতিম শিক্ষার্থীদের নামে সরকারি অনুদান গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। |