| শিরোনাম |
|
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মাউশির পরিচালক নিয়োগে শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ
আতিকুর রহমান আতিক বিশেষ প্রতিনিধি
|
![]() জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মাউশির পরিচালক নিয়োগে শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাউশির রংপুর অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিসিএস ১৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. আমীর আলী গত ৩০ এপ্রিল অবসরে যান। এরপর শূন্য হওয়া পদটিতে নিয়োগের জন্য রংপুর বিভাগের ১৪, ১৬ ও ১৮তম ব্যাচের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজে মো. গোলাম মাজেদের চেয়ে সিনিয়র অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ কর্মরত থাকলেও তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পরিচালক পদাধিকার বলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফলে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তার অধীনে কাজ করতে হবে, যা প্রশাসনিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং চেইন অব কমান্ডের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার না দিলে কর্মকর্তাদের কর্মোদ্যম ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সরকারের শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রভাব পড়তে পারে। এবিষয়ে রংপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা আক্তার বলেন, “মাজেদ একসময় আমার কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষা ক্যাডারে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এতে অনেক কর্মকর্তা হতাশ হন এবং কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ১৪, ১৬ ও ১৮তম ব্যাচের মধ্যেও যোগ্য কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কাউকে নিয়োগ দিলে ভালো হতো।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ বলেন, “এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কিছু করার নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে জানতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।” সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তাদের টপকে জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অনেক বেশি। আঞ্চলিক পরিচালককে বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি থাকলে নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।” উল্লেখ্য গত ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নীলফামারী সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (ওএসডি) মো. গোলাম মাজেদকে মাউশির রংপুর অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। |