| শিরোনাম |
|
তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার
মো: আরিফুল ইসলাম (আরিফ)
|
![]() তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার আদালত ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, তামিমা সুলতানা তাম্মী তার প্রথম স্বামী রকিব হাসানকে আইনি ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে কোনো প্রকার ডিভোর্স বা তালাক না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক, প্রথম স্বামী জীবিত বা বৈবাহিক সম্পর্ক সচল থাকা অবস্থায় ডিভোর্স ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা সম্পূর্ণ অবৈধ, দণ্ডনীয় অপরাধ এবং তা ব্যভিচারের শামিল। মামলার বাদী ও প্রথম স্বামী রকিব হাসানের পক্ষ থেকে আদালতে ডিজিটাল জালিয়াতি ও ডিভোর্স পেপার জাল করার অকাট্য অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ আনা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত আসামিরা খালাস পাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী এই ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিভোর্স না দিয়ে পুনরায় বিয়ে করেন, তবে তা "দ্বি-বিবাহ" বা 'Bigamy' হিসেবে গণ্য হয় এবং এই অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় পরকীয়া ও ব্যভিচারের অপরাধে শাস্তির বিধান রয়েছে, যেখানে সচল সংসার ভেঙে অন্য কোনো পুরুষ যদি পরস্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে লিপ্ত হয়, তবে তারও কঠোর কারাদণ্ডের নিয়ম আছে। দেশবাসীর গভীর প্রত্যাশা ছিল, আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অপরাধ বিবেচনা করে আসামিদের এই সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং দৃষ্টান্তমূলক বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করবে, যাতে অপরাধী চক্র ও সামাজিক অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাত। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে পরকীয়া, ব্যভিচার এবং পারিবারিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিগুলো আরও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পথ সুগম হলো। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা এখন আইনি ফাঁকফোকর গলে পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাবে। কোনো সচল সংসার ভেঙে অন্য কারও স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ভাগিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। নারীরাও প্রথম স্বামীকে আইনিভাবে মুক্ত না করে বা ডিভোর্স না দিয়ে অবৈধ সম্পর্কের দিকে পা বাড়ানোর আগে দ্বিতীয়বার ভাববে না, যা সামগ্রিক পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করাবে। একটি সুস্থ, নৈতিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে পবিত্র বৈবাহিক সম্পর্ককে সুরক্ষার ঢাল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে এই মামলায় কঠোর সাজাই ছিল সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি ও আইনগত প্রত্যাশা। আইনের এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবেন এবং সেখানে উচ্চতর আদালত সমস্ত নথি ও তদন্তের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন—এমনটাই এখন সাধারণ জনগণের আশা। |