বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭:৩২ পিএম
শিরোনাম অসুস্থ সাংবাদিক আবু মুসাকে দেখতে সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী গনি        ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫টি নতুন নিয়ম আনল ভারত       তালতলীর আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে রান্না ও বসবাসের অভিযোগ, সেশন ফির নামে অর্থ আদায় নীরব শিক্ষা কর্তৃপক্ষ       সাগরে ইঞ্জিন বিকল হওয়া ট্রলারটি ৩১ ঘণ্টাপর অন্যবোটের সহায়তায় ৬ জেলেসহ ফিরলেন ঘাটে        গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত       ২৬৩ তম অ/জ্ঞাত ভ/বঘুরে বৃদ্ধের বে/ওয়ারিশ লা/শ দাফন সম্পন্ন-        চলনবিলে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ-এমপি আনুর      
তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার
মো: আরিফুল ইসলাম (আরিফ)
Published : Wednesday, 10 June, 2026
তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার

তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানা তাম্মীর বহু আলোচিত ও বিতর্কিত অবৈধ বিয়ে এবং ব্যভিচার মামলা থেকে আসামিদের বেকসুর খালাস পাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ এবং ধর্মীয় চিন্তাবিদরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি বিপজ্জনক ও অনৈতিক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো, যা দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। আইনি জটিলতা, তদন্তের দুর্বলতা আর তথ্য-প্রমাণের ফাঁকফোকর গলে আসামিদের এই নিষ্কৃতি সাধারণ মানুষের মনে আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
​আদালত ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, তামিমা সুলতানা তাম্মী তার প্রথম স্বামী রকিব হাসানকে আইনি ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে কোনো প্রকার ডিভোর্স বা তালাক না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক, প্রথম স্বামী জীবিত বা বৈবাহিক সম্পর্ক সচল থাকা অবস্থায় ডিভোর্স ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা সম্পূর্ণ অবৈধ, দণ্ডনীয় অপরাধ এবং তা ব্যভিচারের শামিল। মামলার বাদী ও প্রথম স্বামী রকিব হাসানের পক্ষ থেকে আদালতে ডিজিটাল জালিয়াতি ও ডিভোর্স পেপার জাল করার অকাট্য অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণ আনা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত আসামিরা খালাস পাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী এই ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিভোর্স না দিয়ে পুনরায় বিয়ে করেন, তবে তা "দ্বি-বিবাহ" বা 'Bigamy' হিসেবে গণ্য হয় এবং এই অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় পরকীয়া ও ব্যভিচারের অপরাধে শাস্তির বিধান রয়েছে, যেখানে সচল সংসার ভেঙে অন্য কোনো পুরুষ যদি পরস্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে লিপ্ত হয়, তবে তারও কঠোর কারাদণ্ডের নিয়ম আছে। দেশবাসীর গভীর প্রত্যাশা ছিল, আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অপরাধ বিবেচনা করে আসামিদের এই সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং দৃষ্টান্তমূলক বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করবে, যাতে অপরাধী চক্র ও সামাজিক অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাত।
​অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে পরকীয়া, ব্যভিচার এবং পারিবারিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিগুলো আরও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পথ সুগম হলো। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা এখন আইনি ফাঁকফোকর গলে পার পেয়ে যাওয়ার সাহস পাবে। কোনো সচল সংসার ভেঙে অন্য কারও স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে ভাগিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা সমাজে ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে। নারীরাও প্রথম স্বামীকে আইনিভাবে মুক্ত না করে বা ডিভোর্স না দিয়ে অবৈধ সম্পর্কের দিকে পা বাড়ানোর আগে দ্বিতীয়বার ভাববে না, যা সামগ্রিক পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করাবে।
​একটি সুস্থ, নৈতিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে পবিত্র বৈবাহিক সম্পর্ককে সুরক্ষার ঢাল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে এই মামলায় কঠোর সাজাই ছিল সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি ও আইনগত প্রত্যাশা। আইনের এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবেন এবং সেখানে উচ্চতর আদালত সমস্ত নথি ও তদন্তের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন—এমনটাই এখন সাধারণ জনগণের আশা।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com