| শিরোনাম |
|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাঁঠালে সুবাস ছড়াচ্ছে সীমান্ত জনপদ
ইঞ্জিঃ মো. আজহার উদ্দিন,
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার লাল পাহাড়ি মাটিতে এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় জেলার বিভিন্ন বাগানে ঝুলছে ছোট-বড় অসংখ্য কাঁঠাল। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় খুশি বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে সুস্বাদু কাঁঠাল কিনতে পেরে স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারাও।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, জেলার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী লাল মাটির এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাঁঠালের আবাদ হয়। বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়াবাজার, চম্পকনগর ও সিঙ্গারবিল; কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ ও কায়েমপুর; এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমুদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাগানেই এখন কাঁঠালের সমারোহ। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এ অঞ্চলের লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকেই পাইকাররা আকারভেদে প্রতি ১০০টি কাঁঠাল বিভিন্ন দামে কিনে নিচ্ছেন। ফলে লাভের মুখ দেখছেন বাগান মালিকরা। জেলার পাশাপাশি কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজয়নগরের পাহাড়পুর গ্রামের বাগান মালিক তাসরিফ ইসলাম বলেন, “এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ কাঁঠাল কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে বাগান থেকেই কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভালো ফলনের কারণে আমরা লাভবান হওয়ার আশা করছি।” ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া বলেন, “আমরা আগেই বাগান কিনে রেখেছিলাম। তখন প্রতি ১০০ কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনেছি। এখন পরিপক্ক হওয়ায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এই দাম থাকলে ভালো লাভ হবে।” কাঁঠাল বাগান দেখতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আজহার মিয়া বলেন, “সীমান্তবর্তী লাল মাটির কাঁঠালের স্বাদ আলাদা। দামও তুলনামূলক কম। তাই বাড়ি ফেরার সময় কিছু কাঁঠাল নিয়ে যাব।” জেলার আনন্দবাজার এলাকার কাঁঠাল বিক্রেতা আব্দুল করিম জানান, তিনি বিজয়নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁঠাল এনে শহরের বাজারে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় আড়াই’শ থেকে তিন’শ কাঁঠাল বিক্রি হয়। তার ভাষায়, “ক্রেতারা অন্য এলাকার চেয়ে বিজয়নগরের কাঁঠাল বেশি পছন্দ করেন।” কাঁঠাল কিনতে আসা বিকাশ মুন্না মিয়া বলেন, “বিজয়নগরের কাঁঠালের স্বাদ ভালো হওয়ায় মানুষের কাছে এর চাহিদা বেশি। তাই আমিও এখানে কাঁঠাল কিনতে এসেছি।” এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, “বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার পাহাড়ি টিলাভূমির লাল অম্লীয় মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বছরই এ অঞ্চলে কাঁঠালের আবাদ বাড়ছে।” |