| শিরোনাম |
|
মোচড়া বিলে তিন ফসলি জমি দখলের অভিযোগ: সরেজমিনে গিয়ে সমাধানের আশ্বাস এমপি বাচ্চুর
নড়াইল প্রতিনিধি :
|
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার মোচড়া বিলের তিন ফসলি কৃষি জমি দখল করে বাঁধ নির্মাণ ও মাছের ঘের খননের অভিযোগ উঠেছে মোচড়া গ্রামের রফিক শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগের পর নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু রবিবার (৩ মে) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এসময় তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন এবং দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সঠিক সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সবাইকে মারামারি ও সংঘাত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে গত চার মাস আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মোচড়া বিলে মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের কাছেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার মোচড়া গ্রামের আবদুর রহমান শেখের ছেলে রফিক শেখ রিসোর্ট ও মাছের ঘের নির্মাণের নামে মোচড়া বিলের বিস্তীর্ণ তিন ফসলি কৃষি জমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি ভরাট, বাঁধ নির্মাণ ও মাছের ঘের খনন করছেন। এতে এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু ফসলি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি রফিক শেখের কাছে বিক্রি কিংবা লিজ দিচ্ছেন। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসময় উপস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান মোল্যা, মইনুল হাসান রাজু, আয়ুব মোল্যা, রিয়াজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, টিপু ফকির ও ইউনুচ শেখ বলেন, “রফিক শেখ কিছু জমি কিনে ও কিছু জমি লিজ নিয়ে মাছের ঘের করেছেন। ঘেরের চারপাশে মাটির বাঁধ দেওয়ায় মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের জমি তার ঘেরের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় সেখানে যাতায়াত ও চাষাবাদে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।” তারা আরও অভিযোগ করেন, “রফিক শেখ রাস্তা নির্মাণের জন্য অনেকের বাড়ির জমি জোরপূর্বক কিনে নিয়ে তাদের উ চ্ছেদ করেছেন। এসবের প্রতিবাদ করলেলোকজন দিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রফিক শেখ বলেন, “আমি জমি ক্রয় ও লিজ নিয়ে মাছের ঘের করেছি। জোরপূর্বক কোনো জমি দখল করা হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হবে।” |