| শিরোনাম |
|
প্রকৃতির মাঝে শিক্ষকের পাঠদান জ্বালানি সাশ্রয় ও আধুনিক শিক্ষার নতুন দিগন্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
|
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা সুলতানা গত ৯ তারিখ বৃহস্পতিবার প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে কলেজের পুকুরপাড়ে প্রকৃতির মাঝে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। অনলাইন ক্লাস বা চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি খোলা পরিবেশে শিক্ষাদানকে একটি কার্যকর ও আধুনিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছেন।তার মতে, প্রকৃতির মাঝে পাঠদান শিক্ষার্থীদের শুধু বিষয়বস্তু সহজে বুঝতেই সাহায্য করে না, বরং তাদের মনোযোগ, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনাও বাড়ায়। একই সঙ্গে এটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হতে পারে। অধ্যাপক ফারজানা সুলতানার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা যেমন অনলাইন ক্লাসের সুবিধা রয়েছে, তেমনি সব সময় প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প পদ্ধতিও প্রয়োজন। তার মতে, খোলা আকাশ, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, খোলা পরিবেশে ক্লাস নেওয়ায় তাদের শেখার আগ্রহ বেড়েছে। সাধারণ শ্রেণিকক্ষের তুলনায় এখানে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে প্রশ্ন করতে পারছে এবং আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে। ফলে বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে এ ধরনের প্রকৃতিনির্ভর পাঠদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আরও মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এ ধরনের শিক্ষাপদ্ধতি নিয়মিত কার্যক্রমে রূপ নিতে পারে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করে তুলবে। সব মিলিয়ে, প্রকৃতির মাঝে পাঠদান শুধু একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নয়, বরং ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব ও উদ্ভাবনী শিক্ষার সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। |