| শিরোনাম |
|
সময়মতো বিলের কাগজ না পাওয়ার অভিযোগ বিরোধী দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() সময়মতো বিলের কাগজ না পাওয়ার অভিযোগ বিরোধী দলের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তিন দিন আগে আমাদের ডকুমেন্টগুলো দেওয়ার কথা। সমস্যা, বাস্তবতা সবগুলো কনসিডার করে বলা হয়েছিল মিনিমাম একদিন আগে দেওয়া হবে, এনশিওর করা হবে। আমি তো অর্থনীতির ছাত্র না। এতগুলো ডকুমেন্ট এখানে আসার পর আমাদের দেওয়া হয়েছে। একদিকে সংসদ চলছে, আরেকদিকে ডকুমেন্টগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দুর্বল ছাত্র এজন্য এখন ওপরে হাত তুলব, না নিচে নামাব-এটাও বুঝতে পারি না। এখন যদি সংসদ-সদস্য হিসাবে কিছু না বুঝে হ্যাঁ বলি এটা হবে অপরাধ, যদি না বুঝে নাও বলি এটাও হবে অপরাধ। এজন্য আমরা চুপ থেকেছি। আমাদের অবস্থান এখন তাই।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি এসব কর্ম নির্ধারণ করছে। আইনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য সংসদে বিশেষ এই কমিটিতে আমাদের সংসদ-সদস্য জয়নাল আবদিন সাহেব সভাপতি ছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আইনমন্ত্রীসহ সবাই এটা আলোচনা পরিচালনা করে যেসব অধ্যাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে এজ ইট ইজ পাশ করার জন্য ডিসাইডেড হয়েছে, তার মধ্যে এই বিলটাও ছিল। কিছু বিল নোট অব ডিসেন্ট ছিল, আলোচনার দাবি রেখেছিলেন বিরোধীদলীয় সদস্য। সেটি ইতোমধ্যে দুই মিনিটের জায়গায় ১০ মিনিট, ১৫ মিনিট যেভাবে উপযুক্ত মনে করেছেন আলোচনার জন্য দিয়েছেন। বিল পাশ হয়ে যাওয়ার পর এখন যদি বলেন, আমি কিছু বুঝলাম না, যদি আপত্তি দিতেই হতো উত্থাপনের পর তারপর সেকেন্ড রিডিংয়ে বিবেচনার সময় তো! সেজন্য আমি ধন্যবাদ জানাই বিরোধীদলীয় নেতাকে, বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যদের। যে আপনারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন, হ্যাঁও বুঝে দিয়েছেন, নাও বুঝে দিয়েছেন, এই অপরিসীম সহযোগিতার জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এ সময় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ কমিটির কথা। বিশেষ কমিটিতে এ আলোচনা হয়নি যে, যখন সংসদ চলবে তখন টেবিলে টেবিলে বিলগুলো হাজির করা হবে। এটা তো তিন দিন আগেই দেওয়ার কথা ছিল। যেগুলো আপত্তি আমরা জানিয়েছি ওটা ছাড়াও এই বিলগুলোর ব্যাপারে সংসদে কথা বলার সুযোগ আছে। সুতরাং আমাদের কথা বলা অধিকার। এ সুযোগ থাকা উচিত ছিল আর কী।’ এ পর্যায়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সদস্য বলেছেন সবগুলো উপস্থাপনের কথা ছিল। সো আমি ওই বিশেষ কমিটির সদস্য হিসাবে এটা রিকালেক্ট করতে পারি না। আমার মনে হচ্ছে না যে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল। দ্বিতীয়ত, আর্টিকেল ৯৩ অব দি কনস্টিটিউশন, সেখানে বলা আছে তিনটা অপশন। নম্বর ওয়ান ৩০ দিনের মধ্যে বিল উপস্থাপন করতে হবে। সব ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো আপনাদের সামনে আনতে হবে। আমরা এনেছি। নম্বর টু অপশন হলো-আমরা কোনটা উত্থাপন করব। যদি কোনোটা উত্থাপন না করি, তাহলে সেটা ল্যাপস হবে। যেটা উত্থাপন করা হবে সেটার আবার দুটি ফ্যাক্ট আছে। এক বিল আকারে অনুমোদন হবে অথবা অনুমোদন হবে না। শব্দগুলো এভাবে দেওয়া আছে। তো যেগুলো উপস্থাপন করা হবে না ওখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো আমরা উপস্থাপন করিনি। ওগুলোর ওপর আলোচনার সুযোগ রুলস অব বিজনেস এবং আর্টিকেল ৯৩-তে নেই। যেগুলো আমরা উপস্থাপন করেছি সেগুলো বিল আকারে যেটা পাশ হয়েছে। যদি কোনোটা পাশ না হতো তাহলে ওইটা অননুমোদন হিসাবে গণ্য হয়ে সাইডলাইনে চলে যেত। এটা হলো আর্টিকেল ৯৩ রেড উইথ সংসদের যে কার্যপ্রণালি বিধি আছে সেটা। আমরা আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটাইনি।’ জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো বিশেষ কমিটিতে ছিলাম না, আমি বলতে পারব না। যারা ছিলেন তারা এটা এক্সপ্লেইন করবেন। কিন্তু আপনার সভাপতিত্বে আমরা যখন কার্য উপদেষ্টা কমিটির মিটিং করি তখন এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর দুটি জিনিস একেবারেই স্পষ্ট হয়েছে আমি যেটা বলেছি। একটা হলো-সবগুলো বিল আসবে। দুই নম্বর হলো-মিনিমাম একদিন আগে আমাদের ডকুমেন্টগুলো দেওয়া হবে। এই দুইটার বাইরে আপনি কোনো রুলিং দেননি। তিন নম্বর হলো-আমি একান্ত শ্রদ্ধা রেখে বলব যারা বিশেষ কমিটির সদস্য ছিলেন তারা খুবই বিজ্ঞ, তারা সরকারি দল থেকেও ছিলেন, বিরোধী দল থেকেও ছিলেন। তাদের রায় যদি চূড়ান্ত হয়ে থাকে তাহলে আর এখানে কাগজপত্রেরও দরকার নেই। তাতে আমাদের যে অধিকার, শুধু অধিকার না দায়িত্বের যে বিষয়টা আছে সেটা পালন হবে কীভাবে।’ পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার প্রত্যেকটা বিল উত্থাপনের পরে এ কথাগুলো বিরোধীদলীয় নেতা বলতে পারতেন। আপনি যেমন উত্থাপনের অনুমতি দিচ্ছেন তখন ইউ হ্যাভ অলরেডি কন্ডন দি টাইম। এটাই হচ্ছে মাননীয় স্পিকার রুলস অব প্রসিডিউর।’ শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা যে কথাগুলো বলেছেন, আমিও তার সঙ্গে একমত। একচুয়ালি বিল শেষ মুহূর্তে পেলে এটার ওপরে আলোচনা করা ডিফিকাল্ট। কিন্তু এই যে সিচুয়েশনটা হলো, এটার প্রধান কারণ হলো যে আজকের মধ্যে আমাদের বিলগুলো ফাইনালাইজ করতে হবে। পাশ করতে হবে। এই টাইম লিমিটের কারণে ৩০ দিন না হলে তো আমরা আরও ১৫ দিন বা এক মাস সময় নিতে পারতাম। |