| শিরোনাম |
|
দুদকে অভিযোগের পর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য রাজউকের ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() দুদকে অভিযোগের পর অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য রাজউকের ইমারত পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মো. শামীম হোসাইনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভবন মালিকদের নোটিশ প্রদান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ আর্থিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ দৈনিক গণকণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলে সহকর্মীদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তি ও পরিদর্শন কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ ও জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অফিসের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। কিছু সূত্রের দাবি, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন, যা তার দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার দুই সন্তান ব্যয়বহুল ইংরেজি মাধ্যমের একটি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, যেখানে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উত্তরা ও দক্ষিণ মোল্লারটেক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং গ্রামের বাড়িতে সম্পত্তি অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে জমি ক্রয়ের বিষয়টিও তদন্তের দাবি করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী নিজেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বল্প চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদ অর্জন ও বিভিন্ন অনিয়ম জনস্বার্থের বিষয়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হোসাইনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে দৈনিক গণকণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে। |