| শিরোনাম |
|
সুজন-এর দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
গণতন্ত্রে উত্তরণের স্বপ্নে বিভোর জাতি গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। মূলত দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল । তফসিল ঘোষণার পর একজন প্রার্থীর অকস্মাৎ মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। বাকি ২৯৯ আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে যুগপৎ রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনের পর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নির্বাচনের সাধারণ তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন; নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৪ জন এবং হিজড়া পরিচয়ের ভোটার ছিলেন ১ হাজার ১২০ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশে মোট ৪২,৭৯২টি ভোটকেন্দ্র ছিল; যার মধ্যে ৪২,৭৯২ স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ১৩ অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র। এই ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৪০% (শতাংশ) ছিল ঝুঁকিপূর্ণ (বিবিসি বাংলা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল এই নির্বাচনে অংশ নেয় । নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এই নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ৩,৪১৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। ২,৫৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়পত্র যাচাই- বাছাইয়ে ৭২৫ জনের মনোয়নপত্র বাতিল হয় এবং ১,৮৫৭ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৩০৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। আপিলে এবং আদালতের আদেশে ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী যে, ৩০০টি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন ২,০৩২ জন; যার মধ্যে ১,৭৫৬ জন রাজনৈতিক দলের এবং ২৭৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী । ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ২,০২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ২,০২৭ জনের মধ্যে ১,৭৫১ জন ছিলেন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং ২৭৫ জন স্বতন্ত্র । উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ২ জন প্রার্থী দুটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন । নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, রাজনৈতিক দলের ১,৭৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২৯০টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৭টি, জাতীয় পার্টি ১৯৫টি, গণ অধিকার পরিষদ ৯৩টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৬৩টি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪৩টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৬টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ৩৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩২টি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩০টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ২৮টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৪টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ২৩টি, গণফোরাম ২১টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ২১টি, খেলাফত মজলিস ২০টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ২০টি, জনতার দল ২০টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৯টি, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি ১৮টি, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৭টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৭টি, আমজনতার দল ১৫টি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) ১৪টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ১৪টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১৩টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১২টি, নাগরিক ঐক্য ১১টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৮টি, বংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ৮টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ৮টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ৭টি, জাকের পার্টি ৫টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৫টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ৪টি, গণফ্রন্ট ৪টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ২টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ২টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পাটি (বাংলাদেশ ন্যাপ) একটি (১টি) করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৭৫টি আসনে। নারী প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ৮৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; যা মোট প্রার্থীর ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২০টি দল থেকে ৬৬ জন নারীকে মনোনয়ন মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল; যা মোট প্রার্থীর ৭৭.৬৫%। এছাড়াও ১৯ জন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; যা মোট নারী প্রার্থীর ২২.৩৫%। ২০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ১০ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-মার্কসবাদী থেকে ১০ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি থেকে ৬ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে ৬ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ থেকে ৫ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ৪ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ৩ জন, গণফোরাম থেকে ৩ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি থেকে ২ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে ২ জন এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি প্রচারণা গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ-সূচক ভোট' দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালায় জামায়াত, এনসিপি এবং বিভিন্ন ইসলামীপন্থী রাজনৈতিক দল। বিএনপি প্রথমদিকে নীরব থাকলে শেষদিকে এসে গণভোটে 'হ্যাঁ-সূচক ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানায়। আর জাতীয় পার্টি এবং কিছু বামপন্থী দল 'না' ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয় । অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় জনবল ও অবকাঠামো ব্যবহার করে জনগণকে 'হ্যাঁ-সূচক ভোট' দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তবে নির্বাচনের আগে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি ভুল নির্দেশনা জারি করে। যার ফলে সরকারি কর্মকর্তারা গণভোট সংক্রান্ত প্রচারণা থেকে নিজেদেরকে কিছুটা গুটিয়ে নেন । কমিশনের নির্দেশনাটিতে বলা হয়েছিল: “উপযুক্ত বিষয়ে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধরা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ এর বিধানাবলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক জানানো যাচ্ছে যে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন; তবে তিনি গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে বা 'না' এর পক্ষে ভোট প্রদানের জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না। কেননা, এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ২। বর্ণিতাবস্থায়, উল্লেখিত বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।” দুর্ভাগ্যবশত, নির্বাচন কমিশনের প্রেরিত নির্দেশনাটি সংশ্লিষ্ট আইনের ভুল পাঠের ভিত্তিতে জরি করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর বিষয়ে আসা যাক। আরপিও'র ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: “যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাহার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইবেন।” আরপিও'র এ বিধানে যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তা সংসদ সদস্যদের নির্বাচন, গণভোট নয়। কারণ আরপিও'র অনুচ্ছেদ ২(৭) এ প্রদত্ত সংজ্ঞানুয়ায়ী, ““নির্বাচন' অর্থ এই আদেশের অধীন কোনো সদস্যের আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন।” অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিধান গণভোটের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে। একটি একটি মস্তবড় ভুল । এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২১ ধারার উল্লেখও বিভ্রান্তিমূলক। গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধরায় অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে: “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।” লক্ষণীয়, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর এই ধারায় “যতদূর প্রযোজ্য” শব্দ দুটি অন্তর্ভুক্ত। পূর্বের আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, নির্বাচনী অপরাধ, দত্ত ও বিচার পদ্ধতি সংক্রান্ত আরপিও'র ৮৬ অনুচ্ছেদ গণভোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ আরপিও'র ৮৬ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রণীত। একইভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি শুধু সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, গণভোটের ক্ষেত্রে নয়। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২১ ধারা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের 'হ্যাঁ' ভোটের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো অবৈধ নয় । আশা করি, নির্বাচন কমিশন তার ভুল বুঝতে পারবে এবং তাদের নির্দেশনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে ৷ ফলাফল গণভোটে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ০২৩ জন; যা শতকরা হারে ৬০.২৬%। 'হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২০টি (৬২.০৩%) এবং 'না ভোট' পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি (২৮.৪১%)। উল্লেখ্য, গণভোটে বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৭টি (৯.৫৫%)। ফলাফল বিশ্লেষণ যে সকল জেলায় গণভোটে 'না' ভোট 'হ্যাঁ'-এর তুলনায় বেশি পড়েছে, সে সকল জেলায় নির্দিষ্ট দলের তুলনামূলক বেশি ব্যবধানে জয়লাভ জনমতের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করতে পারে। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ ধরনের প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ করা গেছে, যা গণভোট ও সংসদীয় ভোটের পারস্পরিক প্রভাব নির্দেশ করে। শেষকথা পরিশেষে, গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অনেক প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার । গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল আর যেন কর্তৃত্ববাদের উদ্ভব না হয়, মানুষ যেন তার ভোটাধিকার ফিরে পায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, সকল ধরনের বৈষম্যের যেন অবসান ঘটে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সমাজের সকল স্তরে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আশার কথা হলো, একটি অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা কর্তৃক পরাজিত দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং পরাজিত দল কর্তৃক বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সংবিধান সংক্ষার পরিষদের শপথ নেওয়া বা না নেওয়া, বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ এবং ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো কর্তৃক মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে এবং আমরা সকলে মিলে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হবো । |