| শিরোনাম |
|
মরুভূমির পথে নবীগঞ্জের হাওর, সেচ সংকটে বিপন্ন বোরো স্বপ্ন
সুলতান মাহমুদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
|
![]() মরুভূমির পথে নবীগঞ্জের হাওর, সেচ সংকটে বিপন্ন বোরো স্বপ্ন নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মাঠগুলোতে এখন বোরো চারা ঝলমল করার কথা থাকলেও চিত্রটি ভিন্ন। উপজেলার দিনারপুর এলাকার উঁচু জমি থেকে শুরু করে বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ও পূর্ব ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলÑসর্বত্রই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে মাটির আর্দ্রতা হারিয়ে অনেক জায়গায় বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। রোপণ করা কচি ধানের চারা পানির অভাবে কুঁকড়ে যাচ্ছে, যা দেখে কৃষকের চোখে এখন কেবলই অশ্রু। একসময়ের প্রমত্তা কুশিয়ারা নদীসহ শাখা নদী ও খালগুলোতে পলি জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ খাল এখন মৃতপ্রায়। ফলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সেচ দেওয়ার কোনো উপায় নেই। সেচ পাম্পগুলো সচল রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকরা। পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়েও মিলছে না কাক্সিক্ষত পানি। পানির অভাবে সেচ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। একদিকে লোডশেডিংয়ের ভয়, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য। কৃষকরা জানান, বৃষ্টির পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে যন্ত্রের মাধ্যমে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে করে ধান চাষের লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রান্তিক কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, "আগে প্রাকৃতিক পানির ওপর ভরসা করতাম, এখন মেশিন চালানো ছাড়া উপায় নাই। পানির অভাবে মাটি ফাটছে, চারা মইরা যাইতেছে।" আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও ভারী বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। দিনের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় রোদে পোড়া অবস্থা তৈরি হয়েছে ফসলের মাঠে। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জমিতে বিকল্প সেচ ব্যবস্থা চালু রাখতে এবং বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে চারা রক্ষার চেষ্টা করতে। তবে কৃষকদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে সেচ বাবদ প্রণোদনা বা বিদ্যুৎ বিল মওকুফের ব্যবস্থা না করলে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। নবীগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই বোরো ফসল। যদি অবিলম্বে প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত না হয় কিংবা সেচ সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন শুধু ব্যাহতই হবে না, বরং এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সরকারের যথাযথ হস্তক্ষেপই এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর নবীগঞ্জ উপজেলায় বোরো উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৯শ ৩৫ হিক্টর, আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার হেক্টর, যা লক্ষমাত্রা চেয়ে ৬৫ হেক্টর বেশি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন আগাম বন্যা) না ঘটলে নবীগঞ্জ উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। "তবে বাস্তবতা হলো নবীগঞ্জের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। যদি প্রকৃতির এই বিমাতাসুলভ আচরণ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সরকারিভাবে দ্রুত বিকল্প সেচ সহায়তা প্রদান করা না হয়, তবে এবার হাওরাঞ্চলে হাহাকার অনিবার্য। বাম্পার ফলনের সরকারি স্বপ্ন কি তবে মাঠের ফাটলেই হারিয়ে যাবেÑএখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।" |