| শিরোনাম |
|
হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে যা বললেন আইজিপি
অনলাইন ডেস্ক :
|
![]() হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে যা বললেন আইজিপি শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য একটি বড় দায়ভার এবং সেই দায় পালনে বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী এবং রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন। আইজিপি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে ন্যায়সঙ্গত কাজ করতে দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, গ্রেফতার করতে গেলে যদি থানায় ঘেরাও করে বসে থাকা হয়, তাহলে পুলিশের কর্তৃত্ব কোথায় থাকে। তবে কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি নিজেকেও ধরতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়সঙ্গত কাজ করতে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে আইজিপি বলেন, এসব মামলায় অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যাদের অনেকেই সরাসরি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশ সেসব ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পুলিশের মনোবল ধরে রাখতে জনগণের সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, পুলিশের পাঁচ হাজার ৫০০টির বেশি অস্ত্র খোয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে এখনো এক হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সব অস্ত্র একসঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও ধাপে ধাপে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫১টি দেশি ও বিদেশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে। জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডেভিল হান্ট ফেজ টু অভিযান প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। এ নিয়ে নানা সমালোচনা থাকলেও পুলিশ চেষ্টা করছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কাজ করতে। যেসব ব্যক্তি নির্বাচনের পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারেন বা যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সরকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ৮ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ মোট ২৪ হাজার কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব ক্যামেরা কেনা হচ্ছে এবং ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণও চলছে। এর মূল উদ্দেশ্য একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা। আইজিপি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ বছরে নিয়োগ পাওয়া অনেক পুলিশ সদস্য এমন নির্বাচন দেখেছেন, যেগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ছিল না। ফলে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অনেকের পরিষ্কার ধারণা ছিল না। এই ঘাটতি দূর করতেই এক লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩৩ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিগত সময়ের পুলিশি ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করে আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পুলিশের মধ্যে দলীয়করণ ও নানা বিচ্যুতি ছিল, যার কারণে বাহিনীর ওপর নেতিবাচক দায়ভার এসেছে। সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ এখন পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশ পুরোপুরি সফল হতে পারেনি, সেটিও তিনি স্বীকার করেন। শেষে আইজিপি বলেন, অপরাধ পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনা কঠিন হলেও পুলিশের লক্ষ্য থাকবে যেন একজন মানুষও প্রাণ না হারায়। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড জাতিকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। |