| শিরোনাম |
|
কোম্পানীগঞ্জে মসজিদ ভেঙে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ: মুসল্লি-আলেমদের বাধায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি
গনকণ্ঠ প্রতিবেদক, নোয়াখালী:
|
![]() নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট এলাকায় একটি মসজিদের নিচতলা ভেঙে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাংশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে। এ ঘটনায় লাজনাতুল ওলামা কোম্পানীগঞ্জ শাখার উদ্যোগে আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানায়। এর আগে বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মসজিদ ভাঙার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসল্লি ও আলেম-ওলামারা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙচুরের কাজে বাধা দেন। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্যের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট ব্যক্তির দানকৃত ওয়াকফকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তিতে বাণিজ্যিক মার্কেট বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ বৈধ নয়। এই দাবিকে সামনে রেখেই ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ভাঙার কাজে বাধা প্রদান করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দোকান ভাড়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কমিটির কিছু কুচক্রী মহল মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করে জোরপূর্বক মসজিদ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে মসজিদের নিচতলা প্রায় পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বশীলরা এসে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের চাপের মুখে ভাঙার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা পরিষদের সেক্রেটারি শিবলু জানান, “কমিটি ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচতলায় মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে যেহেতু এ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাই আপাতত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।” অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান জানান, “মসজিদের নিচতলা ভেঙে মার্কেট নির্মাণ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ স্থানীয় আলেম-ওলামারা দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইসলামী ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে শরিয়াহসম্মত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ন্যায়সঙ্গত ও ধর্মীয় বিধানসম্মত সমাধান কামনা করছেন। |