| শিরোনাম |
|
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে 'মুক্তিযুদ্ধের চিঠি পাঠ'
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে 'মুক্তিযুদ্ধের চিঠি পাঠ' সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) চরফ্যাশন টাওয়ারের সামনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘ শাখার সদস্যরা একে একে পাঠ করেন হয় মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা চিঠি। এসব চিঠিতে উঠে আসে যুদ্ধের বিভীষিকা, শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দৃঢ় প্রত্যয়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রিয়জনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার অনুভূতি। এসময় অনেকেই আবেগ সংবরণ করতে পারেননি। বসুন্ধরা শুভসংঘ চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চিঠিগুলো কেবল ইতিহাস নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই চিঠিগুলোতে একজন মুক্তিযোদ্ধার মানসিক দৃঢ়তা, ত্যাগের মানসিকতা এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।' সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিব বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চিঠি পাঠ তরুণ সমাজকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সহায়ক।' উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মারিয়া বলেন, 'বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর হলেও, তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখে।' এছাড়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুবায়ের হোসেন বলেন,'ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে, এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে তরুণরা দেশের ইতিহাস জানতে আগ্রহী হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।' অনুষ্ঠানে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিব, মারিয়া, মো. জুবায়ের হোসেন, সদস্য মো. মোশারফ হোসেন, মো. সাকিব, আজলান তায়েব সৈয়দা সামসুন নেছা তায়েবা, মো. হোসাইন, মো. জেনিদ, মো. হাবিব, মো. সজীবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচকরা মুক্তিযুদ্ধের চিঠিগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এসব চিঠি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ইতিহাসভিত্তিক এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। |