| শিরোনাম |
|
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে সাত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিয়ে সাত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তৃত আন্দোলনের মধ্যে সাত কলেজকে কেন্দ্র করে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের অপূর্ণ চাহিদা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে সাত কলেজের শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতেই এই নতুন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম সিদ্ধান্তে বলা হয়, সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষা, সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত ফল প্রকাশ এবং সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। এসব দাবি পূরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন পূর্বে যে খসড়াটি পাঠিয়েছিল, তা সংশোধনের মাধ্যমে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত রূপ তৈরির কাজ এখন চলমান। মন্ত্রণালয়ের মতে, সাত কলেজের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের জন্য এটি একটি কাঠামোগত উদ্যোগ। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাদেশের খসড়াটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর জনমতের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন অংশীজন থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মতামত জমা পড়ে। পাশাপাশি তিন দফা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। সব মতামত পর্যালোচনা করে খসড়া সংশোধনের কাজ চলছে এবং ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় সিদ্ধান্তে জানানো হয়, অধ্যাদেশের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই শিক্ষাব্যবস্থা যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী প্রশাসন, সাত কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, পাঠদান, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে চলবে তা নির্ধারিত হয়। চতুর্থ সিদ্ধান্তে বলা হয়, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ২৮ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনটি ইউনিটে ভর্তি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এবার মোট ১০ হাজার ১৯৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে ৯ হাজার ৩৮৮ জন ভর্তি নিশ্চয়ন করেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েলও চালু করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও সুষম করেছে। পঞ্চম সিদ্ধান্তে জানানো হয়, নতুন সেশনের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর অধ্যক্ষদের সঙ্গে এবং ৭ ডিসেম্বর শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ক্লাস পরিচালনার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শীতকালীন ছুটি শেষে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ষষ্ঠ সিদ্ধান্তে জানানো হয়, সাত কলেজের বিদ্যমান বৈশিষ্ট্য ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অধ্যাদেশের খসড়া সংশোধন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদ সংরক্ষণ, নারীদের জন্য নির্ধারিত কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা, সম্পত্তির মালিকানা রক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সাত কলেজের নতুন কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার ধরন নির্ধারণ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনগত কাঠামো ও বাস্তবতা যাচাই করেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সপ্তম সিদ্ধান্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তারা দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অভিভাবকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা ও একটি ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হবে না এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। কারণ এই পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেটিই তাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। |