| শিরোনাম |
|
রাঙ্গাবালীতে তরমুজ চাষিদের বিরুদ্ধে হয়রানি মামলার অভিযোগ ; কৃষি আবাদী হুমকির পথে
ষ্টাফ রিপোর্টার: (পটুয়াখালী) :
|
দেশের দক্ষিণ অঞ্চলকে রত্নভান্ডার বা শস্যভান্ডার বলে সুপরিচিত এবং ঐতিহ্য থাকলেও বন বিভাগের খামখেয়ালিতে শত শত একর কৃষি আবাদী খাস জমি দখল সহ প্রান্তিক কৃষকদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলার পাশাপাশি প্রকৃতি নদী ভাঙ্গন আর জোরদারদের যবর দখলে কৃষি আবাদী জমি দিন দিন চরম বিপর্যয়ে পরেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী, ছোট বাইসদিয়া ইউনিয়নের ক'য়েক শত প্রান্তিক কৃষক জনগোষ্ঠীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক জনগোষ্ঠীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি খাস জমির দখলস্বত্ত্ব বজায় রাখার স্বার্থে এবং কৃষি জমির খাস আদায়ের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃদা) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ এর স্বাক্ষরিত কৃষি জমির বাংলা ১৪৩২ সনের চাষের অনুমতিপত্র রাঙ্গাবালী উপজেলাধীন চর ইমারশন মৌজায় উত্তর পাশে নুতন জেগে ওঠা চর সাবেক রিভার ব্লগ ১৪ নম্বর দাগে বাংলা ১৪৩২ সনের ৩০শা চৈত্র পর্যন্ত কৃষক মোঃ মানিক মোল্লা সহ মোট ২৫ জন কৃষকদের মাঝে ২৫ একর, আল আমিন সিকদার সহ মোট ২৫ জন কৃষকদের মাঝে ২৫ একর এবং মোঃ সাইদুর রহমান সহ ২৫ জন কৃষকদের ৩০ একর জমি সরকারি কৃষি খাস জমি তরমুজ চাষাবাদের জন্য শর্তেসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করলে, ইউএনও এবং ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা তহসিলদার এর বিরুদ্ধে কিছু কুচক্রী মহল নীল নকশা একেঁ তিব্র ষড়যন্ত্রে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে অপপ্রচার শুরু করে। যার ফলে প্রতিবছর কাঙ্ক্ষিত লখ্যমাত্রা মৌসুমী ফসল বা ফলন উৎপাদন করতে না পারায় সরকারের কোটি কোটি টাকা মুল্যের ফসল হারাবে এবং চরঅঞ্চলের বেকারত্বের সংখ্যা অধিক হারে বৃদ্ধি সম্ভাবনা আশংকা করছেন বিভিন্ন সুধীমহল।সেই সাথে সাধারন কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে।একাধিক কৃষক ভাইদের সাথে মুঠোফোন কথা বলে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব জমা দিয়ে কাউখালি মৌজার জেগে উঠা জমি এক বছরের জন্য তরমুজ চাষাবাদের জন্য প্রায় তিন'শত এর অধিক কৃষক কৃষাণী লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষাবাদ করছেন। যা বর্তমানে বন বিভাগের খামখেয়ালিতে প্রায় ১০কোটি টাকার তরমুজ এবং সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে। এছাড়া আমাদের মতো প্রান্তিক কৃষকদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। আশা করছি মাননীয় জেলা প্রশাসক মহদোয় তদন্তের মাধ্যমে অসহায় কৃষক জনগোষ্ঠীর প্রতি সুবিচার করবেন। তথ্য অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৫ সালে কাউখালী জে, এল নং-১৭৬ নতুন কাউখালী উঃ কাজল নদী ১২৯ দঃ হরিদ্রাখালী বন পুঃ বুড়াগৌরাঙ্গ নদী সংলগ্ন এলাকায় ৪'শত ১৫ একর জমি বন বিভাগের আওতায় সরকারি ভাবে একটি গেজেট প্রকাশিত হলেও বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫'শত একর সরকারি খাস খতিয়ানের কৃষি আবাদি ভূমি দখল করে রেখেছে। এদিকে ২০০৬-০৭ অর্থবছর এবং সর্বশেষ সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে থেকে এখানে ঝাউ, সুন্দরী, গোলপাতা, বাইনসহ নানা প্রজাতির বনায়ন ম্যানগ্রোভ ও ঝাউ বাগানের দাবী করলেও প্রকৃত পক্ষে বন বিভাগের গেজেট ভূক্ত ৪'শত ১৫ একর আওতার বাহিরে কোন সবুজ বনায়ন বা ম্যানগ্রোভ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলার বন বিভাগের রেঞ্জার মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, রাঙ্গাবালী রেঞ্জাধীন কাউখালি ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতায় নতুন কাউখালি ( সাইনবোর্ড) চরের আওতাধীন সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভূমি জবর দখল করে তরমুজ চাষ করার জন্য ২০২১-২২ সনের সৃজিত সুফল প্রকল্পের ১০ হেক্টর ঝাউ বনের পুরো এলাকা জুড়ে ভেকু মেশিন দ্বারা মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে উক্ত বাগানের ঝাউ গাছ গুলো ভেকু মেশিন এবং দা দিয়ে কেটে ফেলেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভূমি দখল করার অপরাধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে, এবিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মহদোয় সকল ভূমি বন্দোবস্ত বাতিলের বিষয় আশ্বস্ত করেছেন। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (অঃদ) ভূমি রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার পূর্ব কাউখালি, ছোট বাইশদিয়া, কাউখালি এবং চর ইমরাশন মৌজার মোট ২ হাজার একর কৃষি আবাদী খাস জমি অনাবাদী হয়ে আছে, এর ভিতরে বন বিভাগের গেজেট ভূক্ত ৪'শত ১৫ একর, যা বর্তমানে সুরক্ষিত রয়েছে এবং বাকি অবশিষ্ট খাস জমি গুলো সরকার এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে শর্তসাপেক্ষে রেভিনিউ আদায়ের জন্য প্রায় ৩' শত এরও অধিক ভূমি হীন প্রান্তিক কৃষক কৃষাণীদের মাঝে এক বছরের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। বিষয়'টি নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। |