মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১:৪৯ এএম
শিরোনাম Smart Technologies (BD) Ltd. এর ভ্যাট–শুল্ক ফাঁকি ও অর্থপাচারের অনুসন্ধান এক বছরের বেশি ঝুলে আছে দুদকে- প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা, অদৃশ্য সুরক্ষা আর দুদকের ভূমিকা        রাষ্ট্রের প্রয়োজনে প্রস্তুত ৩,২১১ জন উপজেলা আনসার প্রশিক্ষক ও নবীন সৈনিক: প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণের রেকর্ড       দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই, জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল       সন্ধ্যায় ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত        নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল       ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রম উদ্বোধন       বকশীগঞ্জে খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল ও শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত       
বাঞ্ছারামপুরর ইউএনও’র সহযোগিতায় ১৫ মাস বিদ্যালয়ে না এসেও বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষক!
নিজস্ব প্রতিবেদক বাঞ্ছারামপুর
Published : Sunday, 30 November, 2025
বাঞ্ছারামপুরর ইউএনও’র সহযোগিতায় ১৫ মাস বিদ্যালয়ে না এসেও বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষক!

বাঞ্ছারামপুরর ইউএনও’র সহযোগিতায় ১৫ মাস বিদ্যালয়ে না এসেও বেতন উত্তোলন করছেন শিক্ষক!

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে টানা ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর সহযোগিতায় নিয়মিত বেতন ও ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
 শুধু নিজের বেতনই নয়, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বিলেও তিনি নিজে স্বাক্ষর করছেন।বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে  উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্বে থাকলেও অভিযোগ রয়েছে—প্রধান শিক্ষক নিয়মিতই ইউএনও’র কার্যালয়ে যান, বেতন–ভাতা বিভিন্ন বিল সংক্রান্ত কাজও সেখান থেকেই সম্পন্ন করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মানুযায়ী কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের উত্তরপাড়ায় ১৯৮৭ সালে স্থানীয় মিজানুর রহমান ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নামে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে গত জানুয়ারীতে ৮শত ৪৭ শিক্ষাথী ভর্তি হলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭২১জন, বাকিরা শিক্ষার মান খারাপের কারণে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১২ জন এনপিও শিক্ষক ও ৫জন খন্ডকালীন শিক্ষক ও  ও ৬জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে মিলেমিশে স্কুলের খেলার মাঠ ভাড়া, আওয়ামী লীগের কার্যালয় বানিয়ে ভাড়া না নেয়া, নানান ভুয়া বিল দেখি টাকা আত্নসাৎ সহ দুর্নীতি করার কারণে বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের পরে ২০২৪ সালের ৬ আগষ্ট থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে না আসলেও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন তিনি।

সরেজমিন গত রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে অনেক শিক্ষার্থী গল্প করছেন, অনেক শিক্ষার্থী বারান্দায়ও দেখা গেল গল্প করতে, কয়েকটি ক্লাসে শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম অফিস কক্ষে অনেক শিক্ষক বসে গল্প করছিলেন, প্রধান শিক্ষকের রুম খোলা থাকলেও কাউকে দেখা যায়নি এই কক্ষে।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বাবু বলেন, “আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া দীর্ঘদিন যাবত স্কুলে অনুপস্থিত আছেন, এটি নিয়ে আমি মিটিংএ কয়েকবার আলোচনা করেছি, স্কুলের খুব খারাপ অবস্থা এখন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষক সাহেবের সাথে স্কুলের  কোন সমস্যা নেই। এসব কারণে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে স্কুলের কোন মিটিংয়ে অংশ নিই না।”

এবিষয়ে শিক্ষার্থীর অভিভাবক কাউসার আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্কুলের সভাপতি যখন ইউএনও, তখন এমন অনিয়ম কীভাবে চলে বুঝতে পারছি না? প্রধান শিক্ষক স্কুলে না এসে দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বেতন নিচ্ছেন—এটা এলাকাবাসীর সাথে তামাশা করার মতো।আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। প্রধান শিক্ষক নাই, ক্লাসে শৃঙ্খলা নাই। অথচ বেতন তুলতে হলে তিনি নিয়মিত।”

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা শাহিনুর আক্তার জানান, “প্রধান শিক্ষক ফারুক স্যার সেই ২০২৪ সালের পাঁচ আগষ্টের পর থেকে স্কুলে আসেন না, বিদ্যালয়ের বেতন ভাতার বিভিন্ন বিলে স্যার ইউএনও স্যারের রুমে স্বাক্ষর করেন, স্যারের হাজিরা খাতা কিছুদিন আগে ইউএনও স্যার আমার কাছ থেকে নিয়েছেন কোন স্বাক্ষর নেই এখানে তার। শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের কাছ থেকে পাওয়া বেতন ও ভাতায়ও তিনি স্বাক্ষর করছেন, বিদ্যালয়ের মোবাইল উনার কাছে, এতে করে নানার সময় বিভিন্ন কাজে ওটিপি যায় উনার কাছে, উনার কাছ থেকে আনতে হয় আমাদের। আমাদের বিদ্যালয় গত বছর ৯ শতের বেশী  স্টুডেন্ট ছিল, এই বছর তা কমে ৭শতের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে।”

এবিষয়ে ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “আমি গত ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয় যায় না এটা সত্য। মাঝখানে একদিন গিয়েছিলাম সমস্যা হওয়ার কারণে আর যাই না, স্কুলে না গিয়ে বেতন তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সকল জায়গায় বিষয়টি জানিয়েছি স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আমার কাছে টাকা দাবি করার কারণে আমি বিদ্যালয়ে যেতে পারছিনা নিরাপত্তাহীনতার কারণে। আমাকে ইউএনও ম্যাডাম বলেছে আপনি স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করে স্কুলে যান, কিন্তু আমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বলেছি আমাকে সহযোগিতা করতে, আমি তো জীবনের নিরাপত্তা না থাকলে কিভাবে যাই বলেন?আমি চেষ্টা করছি স্কুলে যাওয়ার জন্য, না পারলে বদলি চালু হলে আমি অন্য জায়গায় বদলী হয়ে চলে যাবো।"

এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানান, “প্রধান শিক্ষক ফারুক সাহেব ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ৫ তারিখের পর থেকে বিদ্যালয়ে যান না, তবে তিনি দূরে থেকেই বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের লেনদেনের সকল কাজ উনার স্বাক্ষরিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে নানা রকম সমস্যা হচ্ছে সেটা আমরাও বুঝি। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয় চলে গেছেন এটা শুনেছি। এই বিষয়টা আমাদের ইউএনও ম্যাডাম ভালো বলতে পারবেন তিনি ওই স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব রয়েছেন।"

এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফেরদৌসি আরা সাংবাদিকদের বলেন, “ফরদাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক মিয়া বিদ্যালয়ে না যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি এডিসি শিক্ষা স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমি উনাকে কিছুদিন আগে ফারুক সাহেবকে বলেছি আপনি স্কুলে যান এখানে (আমার অফিসে) আসবেন না। উনার অনুপস্থিতির হাজিরা খাতা আনিয়েছি আমার কাছে।”


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com