| শিরোনাম |
|
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ: দর্শনার্থীদের ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ ও শৃঙ্খলা
রানা আহম্মেদ, প্রতিনিধি
|
দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ ভবন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের পাশাপাশি রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এর আশপাশের এলাকায় সময় কাটাতে আসেন। তবে সম্প্রতি সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের ঘটনা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানের বিভিন্ন অংশে কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করছেন। এমন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে অনেক দর্শনার্থী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ স্থাপনার সামনে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কথা হলে কয়েকজন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। একজন বলেন, “অনেককে এখানে প্রস্রাব করতে দেখেছি, তাই আমিও করেছি।” অপর একজন জানান, আশপাশে পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই তিনি এমন কাজ করেছেন। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, এটি জনসাধারণের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা এমন দৃশ্য দেখে বিব্রত হন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, সন্ধ্যার পর এলাকায় কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডও দেখা যায়, যা জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা হলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সচেতন নাগরিকদের মতে, জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মর্যাদা ও সৌন্দর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নিদিষ্ট জায়গায় গণশৌচাগার স্থাপন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। |