| শিরোনাম |
|
বাজেটে শিল্পবান্ধব নীতি ও প্রণোদনা চাই সৈয়দ শাফকাত আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সায়হাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, হবিগঞ্জ
মাধবপুর ( হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
|
![]() বাজেটে শিল্পবান্ধব নীতি ও প্রণোদনা চাই সৈয়দ শাফকাত আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সায়হাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, হবিগঞ্জ আমরা চাই দেশের উৎপাদিত সুতা, কাপড়, তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শিল্পপণ্য আরও বেশি পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হোক। এজন্য রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ও সহায়ক নীতিমালা, কর-সুবিধা এবং প্রণোদনা অব্যাহত রাখা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিল্পখাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক ক্রেতাদের আস্থাও কমে যায়। তাই বাজেটে জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সহজ শর্ত ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা দরকার। অনেক সময় জটিল প্রক্রিয়া, উচ্চ ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধার কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। কাঁচামাল আমদানি সহজ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাও সময়ের দাবি। বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে বাংলাদেশে এসে সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার যদি শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করে এবং উৎপাদনমুখী খাতে উৎসাহ ও প্রণোদনা দেয়, তাহলে দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। বাংলাদেশের শিল্পখাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শিল্প উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বাজেটে বাস্তবসম্মত সহায়তা দিতে হবে। শিল্পের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই আমরা আশা করি, সরকার এমন একটি শিল্পবান্ধব বাজেট উপহার দেবে, যা উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। |