বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭:৫১ পিএম
শিরোনাম অসুস্থ সাংবাদিক আবু মুসাকে দেখতে সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী গনি        ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫টি নতুন নিয়ম আনল ভারত       তালতলীর আলীর বন্দর এ.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনে রান্না ও বসবাসের অভিযোগ, সেশন ফির নামে অর্থ আদায় নীরব শিক্ষা কর্তৃপক্ষ       সাগরে ইঞ্জিন বিকল হওয়া ট্রলারটি ৩১ ঘণ্টাপর অন্যবোটের সহায়তায় ৬ জেলেসহ ফিরলেন ঘাটে        গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত       ২৬৩ তম অ/জ্ঞাত ভ/বঘুরে বৃদ্ধের বে/ওয়ারিশ লা/শ দাফন সম্পন্ন-        চলনবিলে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে অবাঞ্ছিত কচুরিপানা পরিষ্কারের উদ্যোগ-এমপি আনুর      
ঢাকায় মিলছে বিষধর গোখরার দেখা, কিন্তু কেন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
Published : Tuesday, 4 November, 2025
ঢাকায় মিলছে বিষধর গোখরার দেখা, কিন্তু কেন

ঢাকায় মিলছে বিষধর গোখরার দেখা, কিন্তু কেন

গত চার মাসে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা থেকে তিনশো'র বেশি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মানুষের বাসার ভেতরে, গ্যারেজে এমনকি বহুতল ভবনের নয়তলায়ও সাপ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পদ্মগোখরা, রাসেল ভাইপার, খৈয়া গোখরা, রাজ কেউটের মতো বিষধর সাপও রয়েছে।

বাংলাদেশে বর্ষাকালে সাধারণত সাপ বেশি দেখা যায়। কারণ সাপ আবাসস্থল হিসেবে যেসব গর্ত তৈরি করে তাতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়লে সে আশ্রয়ের জন্য শুকনো স্থানের সন্ধানে উঁচু স্থান ও মানুষের বসতি বা ঘরে ঢুকে পড়ে।

কিন্তু ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরণের বিষধর সাপ পাওয়ায় গবেষকদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কোনো কোনো গবেষক বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান বলেন, জলাশয় ও খালবিল ভরাট করে মানুষ বাসস্থান তৈরি করায় সাপের বাসস্থান সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সাপ মানুষের বাসায় ঢুকে পড়ছে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব সাপগুলো উদ্ধার করছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংস্থা।

এই সংস্থার আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানিয়েছেন, গত চার মাসে ৩৫১টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি নির্বিষ সাপ এবং বাকিগুলো বিষধর সাপ।

ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বসিলা, উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর-২, নিকেতন, উত্তরার উত্তরখান, দক্ষিণখান থেকে এখন পর্যন্ত বিষধর সাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ পাওয়া গেছে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাট প্রকল্প এলাকায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বনশ্রী এলাকা। এর মধ্যে নতুন করে খিলগাঁও-এ গত এক সপ্তাহ ধরে সাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, "উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউকের যে ফ্ল্যাট ওখানে সবচেয়ে বেশি সাপ পেয়েছি। সাততলা, নয়তলা থেকে সাপ উদ্ধার করেছি। এখানকার ১১টা বিল্ডিং থেকে সাপ উদ্ধার করেছি।"

এতো উঁচু ভবনে কিভাবে সাপ গেলো এমন প্রশ্নের জবাবে আজাদ বলেন, যেসব ভবনের উপরের ফ্ল্যাটে সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর প্রতিটি ভবনের গেইটের সাথে বাগান বিলাসের মতো লতানো গাছ রয়েছে, সেই গাছগুলো বেয়ে উপরে ওঠার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকেই হয়তো সাপ বেয়ে উঁচু ভবনে উঠেছে।

যেসব বিষধর সাপ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে পদ্মগোখরা সাপই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান আজাদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানান, "পদ্মগোখরা সাপ মূলত পানিপ্রেমী। নদী, জলাশয়, খাল-বিলে থাকতে পছন্দ করে। তবে, পানির নিকটস্থ ঝোপঝাড় ও গর্তেও এই সাপের দেখা মেলে। "

গত চার মাসে ঢাকায় পাওয়া সাড়ে তিনশ সাপের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় অনেকের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সাপের কামড়ের ঘটনা তেমন দেখা যায়নি। তবে কেন হঠাৎ করে এতো বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপের দেখা মিলছে এমন প্রশ্নে চট্টগ্রামের মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট মো. মিজানুর রহমান জানান, মানুষ সাপের আবাসস্থল ধ্বংস করায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। 

এদিকে ঢাকায় উদ্ধারকৃত সাপগুলো কোথায় রয়েছে এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আজাদ জানান, উদ্ধারকৃত সাপগুলো উদ্ধারের পর লোকালয় থেকে দূরে প্রাকৃতিক কোনো স্থানে অবমুক্ত করা হয়।

সাধারণত বনাঞ্চল যেখানে সাপ তার নিজস্ব পরিবেশ খুঁজে পায় এবং মানুষের সংস্পর্শে না আসে এমন স্থানে এসব সাপ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com